Friday, March 13, 2026

পেঁয়াজী কথা


আরেকটা বৃষ্টির সন্ধ্যে। এবারের আশ্রয়দাতা পড়শী পিয়ালদা। শিক্ষক এবং সমঝদার খাইয়ে। আজকের সন্ধ্যেটা মাত হল পিয়াল-বৌদির হাতে বানানো পেঁয়াজী'তে। বাংলাদেশের অতি পরিচিত, জাতীয়-পতাকা-সম তেলেভাজা হলো এই পেঁয়াজী, কিন্তু পিয়ালদার প্রবল পেঁয়াজী-রোম্যান্স'কে সম্মান জানিয়ে,
পেঁয়াজী ভাজার ব্যাপারটা গ্রাফিকালি সাজিয়ে দেওয়ার লোভ সামলানো গ্যালো না। অতি সহজ অথচ অতি-সুস্বাদু।


রসদ বলতে প্রয়োজন : পেঁয়াজ (বড় বড় খন্ডে কাটা, শুকনো লঙ্কা গুঁড়ো, নুন, কালো জীরে, কাঁচা লঙ্কা কুচিয়ে নেওয়া, অল্প খাওয়ার-সোডা, ব্যাসন এবং তেল; সঙ্গে রয়েছে পিয়াল-বৌদি ইস্পেশাল মসলা; এই মসলা তৈরি হয়েছে, তেজপাতা-জীরে অল্প আঁচ'য়ে ভেজে, তারপর অল্প গরম মসলা মিশিয়ে গ্রাইন্ডারে গুঁড়ো করে নেওয়া)।


সমস্ত মসলা ও নুন দিয়ে, সামান্য জলে ব্যাসনটা ভাল করে আগে গুলে নেওয়া। তারপর পেঁয়াজ'এর টুকরো গুলো সেই ব্যাসনে ভাল করে চুবিয়ে; পুরু ভাবে ব্যাসনাবৃত করে কড়াইতে ডুবো-তেলে ভেজে নেওয়া, যতক্ষণ না পেঁয়াজী'র বড়া গুলো লাল টুকটুকে হয়ে উঠছে। এরপর কড়াই থেকে তেল ছেকে পেঁয়াজীগুলো তুলে নিয়ে, তার ওপর আলতো করে বিট-নুন ছড়িয়ে, কাসুন্দি সহ পরিবেশন।


ভগবান বৃষ্টির সৃষ্টিই করেছেন মানুষ পেঁয়াজী ভাজবে বলে।





1। মসলা-পাতি



2। ব্যাসন-ব্যাপ্তি





4। কড়াই ডগমগ




6। হামলা



শফিকের সাইকেল

-'এই দ্যাখ ব্যাটা, ওই পুরনো সাইকেল আর চড়তে হবে না, বাইক চালাবে এবার তর আব্বু.."


-'বেশ আব্বু, এবার তবে এই বাইকটা তোমার আর সাইকেলটা আমি চালাব, কেমন আব্বু ?"


-'আর সাইকেল কেউ চালায় নাকি রে, তুই আর একটু বড় হয়ে যা, তারপর তোকে আমি এক্কেবারে বাইক চালানো শিখিয়ে দেব, তখন দেখবি বাইক চালাবার কি আনন্দ'


-'কিন্তু আব্বু আমার সাইকেলটাই বেশি ভালো লাগে যে, কেমন সুন্দর তুমি ওতে করে রোজ আমায় বড়-বাজারে ঘুরতে নিয়ে যাও, কেমন সুন্দর বেল'টায় ক্রিং-ক্রিং শব্দ হয়, কেমন সুন্দর সবুজ রঙের বাক্স লাগানো সামনেটায়, মটর-সাইকেলে ভারী বাজে আওয়াজ আব্বু, আমি একটু বড় হলে তুমি আমায় ওই সাইকেল টা চালাতে শিখিয়ে দিও কেমন? কিন্তু কি, ওই সাইকেল টা কই? দেখছি না তো?'



-'ইয়ে..দ্যাখো দেখি বোকা ছেলের কথা, হিরো-হোন্ডা থাকতে কেউ আবার সাইকেলের খোঁজ করে নাকি ?



-'না না না, আমার ওই সবুজ বাক্স-ওয়ালা সাইকেলটাই বেশ, কোথায় বল আব্বু আমার সাইকেল'


-'ওই সাইকেল তো আমি বেচে দিয়েছি বাপ, তুই একটু বড় হলে আমি তোকে নতুন সাইকেল কিনে দেব, ওরকম পুরনো খ্যাংরা-কাঠি সাইকেলের কি দরকার'


-'না না না, আমার ওই পুরনো সাইকেল'টাই চাই, চাই, চাই,চাই, তুমি কাকে দিয়ে এসেছ আমার সবুজ বাক্সের সাইকেল, এখুনি নিয়ে এস আব্বু, নয়তো আমি কখুনো তোমার সাথে কথা বলব না', এই বলে , গোটা দুপুর জুড়ে ৬ বছরের শফিকের কি দুরন্ত কান্না..



********


সন্ধ্যেবেলা, খেলনা পিস্তল নিয়ে যখন শফিক তার বাবার পুরনো সবুজ-বাক্স সাইকেল চলে যাওয়ার শোক ভুলতে বসেছে, ঠিক তক্ষুনি তাদের ঘরের ছোট টিভিটার তাকিয়ে চমকে উঠলো শফিক !


-'হুই যে আমার সবুজ বাক্স সাইকেল'


টিভির স্ক্রিন জুড়ে তখন এক দোমড়ানো সাইকেলের ছবি ভাসছে, সাইকেলের সামনে দুরমুশ হয়ে যাওয়া একটি সবুজ বাক্স


'বড় বাজারে আজ যে সন্ত্রাসবাদী বোমা -বিস্ফোরণে একজন শিশু সহ ৬ জন সাধারণ মানুষ মারা গ্যাছেন, সেই বোমাটি রাখা ছিল একটু পুরনো সাইকেলের সামনে লাগানো একটু সবুজ বাক্সতে, আরও জানা গ্যাছে..'



টিভিতে সিরিয়াল-সিনেমা ছাড়া অনন্য কিছু দেখার শখ কোনদিনই ছিল না আশফাকের, আজি শুধু খবর'এর চ্যানেল চালিয়েছিলেন খবরটার জন্যে;



ছেলে শফিক'এর আকুল চিত্কারে কোনো সাড়া না দিয়ে, আশফাক উঠে গিয়ে টিভিটা বন্ধ করে দিলেন





















সার-কথা


অতিথি লেখক: কেলো


পরিচয়: কোলকাতা-বাসী



ভয়ানক কান্ডএই যে আমি বেঁচে অছি, শিয়ার গডস গ্রেস যাকে বলেট্যাক্সিটা মিনিমাম সত্তরে ছিল, হাফ-ইঞ্চির তফাতে হুশ করে বেরিয়ে গেল।মাইনর এদিক ওদিক হলেই অক্কা, ভাবতেই কেঁপে উঠছি। ঘটনাটার মিনিট পনেরো পরেও, গাএর সমস্ত লোম এককেবারে পারপেণ্ডীকুলার হয়ে আছেবোকা পাঁঠা ভাববেননা আমাকে, রীতিমত জেব্রা ধরে পার হচ্ছিলুমআফটার অল, জন্ম থেকে তো প্রায় কলকাতার রাস্তাতেই মানুষকলকাতা চিরদিনই একটু কেয়ারলেস, কিন্তু সিভিক-সেন্সএর এত অধঃপতনটা কিন্তু হালফিল বেশি দেখছি


ছেলেবেলা কেটেছে উত্তর কলকাতার অলি-গলি চষে, সেসব জাগায় হাত-টানা রিক্সাদের মুভমেন্ট যে ভারী প্রেডিক্টেবল ছিল তা নয়, তবে মোটর-চালিয়ে সায়েব বা ট্যাক্সিচালকরা ছিলেন অনেক বেশি সাবধানী

, ট্র্যাফিকের লাল-বাতি না হোক, অন্তত রাস্তার খান-খন্দদের রেস্পেক্ট দিয়ে স্টীয়ারিং ঘোরাতেন। আজ কাল যে পাবলিকের মাথায় স্পীড-ড্রাইভিংএর কী তুমুল হুলো চেপেছে।


আজকাল অফিস পাড়ায় যাতায়াত করতে হয় নেহাত পেটএর দায়ে, নয়তো কে আসে এই ভীড়ে পাবলিকের জুতোয় নিজের লেজ ইস্তিরি করতে? ( ও হ্যাঁ, ইয়ে, আমি কুকুর, সায়েবি লোম-ব্যাগ নয়, দেশী নেড়ি)। এখন যেখানেই যাওয়া হোক, ভীড়-ভার-ঘাম-দুর্গন্ধ, ধুর! এ জাগায় কুকুর থাকে? আরে এঁটো খাওয়ার খাব ঠিক আছে, কিন্তু তার তো একটা সিস্টেম আছেসিস্টেমটা কি? সোজা ডাস্টবিনে যাবো, অখাদ্য ফিলটার আউট করে, খাওয়ার-দাওয়ার খুঁজে, উদর ভরে চলে আসবো, এই তো? কিন্তু আজকাল মানুষএর সেন্স দেখুন, সমস্ত ডাস্টবিন আজকাল ফাঁকা অথচ যত নোংরা রাস্তায়।সমস্ত সিস্টেমটাই গুবলেট হয়ে যাচ্ছে। পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, নিউক্লিয়ার ফিসন ছাড়া এ শহরের খোল-নলচে পাল্টে দেওয়া অসম্ভব।


ওভার-অল যদি আমাকে ওয়ান টু টেন স্কেলে কলকাতাকে রেট করতে বলেন বাস-যোগ্যতার হিসেবে, আমি দেড় নম্বরের বেশি দিতে পারব না। এই দেড় নম্বর কেন দিলাম বলুনতো ? সিভিক-সেন্স কোসেন্ট তো এ শহরের গোল্লা।দেড় দিলাম এ শহরে সাম্য-বাদ ব্যাপারটা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে বলেওই একটাই পসিটিভ আমি দেখি এই সুপার-নেগেটিভ জগতে


কিরকম সাম্যবাদ? না ইকুয়ালীটি বিটুইন মানুষ এণ্ড পশু। এ জিনিসটা আগে তেমনটা ছিল না বুঝলেন, আগে দেখতাম এ শহরে রাস্তা-ঘাটে কোনও মানুষের সামান্য চোট লাগেল হাজার লোক এসে জুটে যেতে তার শুশ্রূষায়, অথচ আমার মত একটা কুকুর যদি মোটর-ঠোক্কর খেয়ে আধ-মরা হয়েও রাস্তায় পড়ে থাকত, কোনও মানুষই এগিয়ে আসতো না তার প্রাণ বাঁচাতেএটা ছিল আগের ব্যাপার, এবং আজকাল এই ব্যাপারটাতেই কলকাতা এগিয়ে এসেছে সাম্যের পথে। এখন রাস্তার ধারে কোনও মানুষ ভেঙ্গে-চুড়ে পড়ে থাকলেও; তাকে সাহায্য করতে অন্য কোনও মানুষই আর এগিয়ে আসে না উটকো ঝামেলার ভয়ে। ঠিক যেমন করে মানুষ রাস্তায় পড়ে থাকা কোনও আহত কুকুরকে আলতো করে পাশ কাটিয়ে কেটে পড়ে, তেমনি ভাবেই রাস্তায় কোনও বিপদগ্রস্ত সহ-মানবের আর্তনাদকে কুকুরের ঘেউ-ঘেউএর মতই ডিসমিস করে কাঠি রোল-চিলি চিকেনভাবতে ভাবতে আধুনিক কলকাতিয়ে বীরদর্পে এগিয়ে যানএখানেই কলকাতায় এসেছে টোটাল সাম্য, মানুষ ও জন্তুর মধ্যেএইটুকু পাওনা বুকে করেই, আমি কলকাতা ছেড়ে উত্তরপাড়া চলে যাওয়ার রিস্ক নেব না



পুনশ্চ:


কলকাতাকে কালো কুত্তাবলে গাল দেওয়ার নোংরা অভ্যেসটা যদি কারুর থাকে, তবে তা এই ক্ষণ হইতেত্যাগ করলে ভারী খুশি হই। গালাগালটা অন্তত আমার চামড়ায় ভারী লাগে


ভেউ ভুক; অর্থাত্‍ ভালো থাকুন





বং-প্যাকিং




-'প্যাকিং একটা আর্ট বুঝলি পচা, ইন ফ্যাক্ট খুবই আন্ডার-রেটেড আর্ট। তবে যেহেতু ঘুর-ঘুর করবার টেনডেন্সি বাঙালীদের মধ্যেই বেশি, সেহেতু কোথাও ঘুরতে যাওয়ার আগে জিনিষপত্র গোছ-গাছ করবার ব্যাপারে আমাদের ফোকাসটা বেশি তীক্ষ্ণ হওয়া দরকার'- মেজোমামা ফি বছর পুজোর ছুটিতে ঘুরতে বেরোয়। ব্যাচেলর মানুষ, এক ঘুরতে বিশেষ ভালবাসে। এবার চলেছে সিক্কিম। দুপুরে খাওয়ার পর নিজের ব্যাগ গোছাতে গোছাতে আমার সাথে কথা হচ্ছিল। রাত্রি বেলা ট্রেন।


-'আর্ট কিরকম?', আমিও গ্যাঁজানোর মেজাজে ছিলাম।


-'ওয়েল, শিল্প, কারণ চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে, কী ভাবে তুই জিনিস পত্তর বয়ে নেওয়াটাকে অপ্টিমাইজ করতে পারবি যাতে তোকে মুটের মত না ঘুরতে হয়, আবার বেসিক জিনিস পত্রের অভাবে ঘুরে বেড়ানোর মজাটাও যাতে ঘষে না যায়। অবশ্য আর্ট শুধু ব্যাটাছেলের লাগেজের ক্ষেত্রেই হতে পারে। মেয়েরা আর্ট-টার্ট মনে না। ওরা বোঝে কোয়ান্টিটি। ইউসলেস, মেয়েদের সঙ্গে কক্ষনও ঘুরতে যাওয়া নয়, ফার্স্ট রুল অফ প্যাকিং, বুঝলি?'


-'সেই জন্যেই বুঝি তুমি বিয়ে করলে না?'


-'সেটা একটা ফ্যাক্টর তো বটেই।'


-'তো প্রথম রুলটা বুঝলাম, নারী সঙ্গে সর্বনাশ, তারপর?'


-'তারপর! তারপর তোকে দেখতে হবে ঘুরতে যাওয়ার উদ্দেশ্যটা কি, তুই কি কোনও অফিশিয়াল ট্যুরে যাচ্ছিস নাকি ছুটি উপভোগ করতে। যদি অফিসিয়াল ট্যুর হয়ে, তবে অবশ্যই সঙ্গে একটা হালকা স্যুইট-কেস, এবং বাকি আবশ্যক জিনিস। ওটাও কোনও চ্যালেঞ্জ নয়, ধরা বাঁধা জিনিস পুরে নিলেই হল। আসল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে যখন তুই যাচ্ছিস ভ্যাকেসনে, সাত-আট দিন জুড়ে, বাংলাদেশের এই শস্য-শ্যামলা কম্ফর্ট ছেড়ে কোনও তুবড়ি মার্কা জাগায়। যেমন আমি এবার চললাম সিক্কিমি বিরাশী-সিক্কার এক দুর্দান্ত ভ্রমণে। সাত দিনের ঘুরলি, চাট্টি-খানি কথা নয় পচা। যে লিষ্টি টা বানিয়েছি সেটা তোকে পড়ে শোনাই

'


বলেই মেজোমামা ফস করে পকেট থেকে একটা মুদির ফর্দ'র মত একটা লম্বাটে চিরকুট বের করল



-'মন স্থির করে অ্যানলাইজ করতে হবে, যে ঠিক কি কি দরকার হতে পারে, একটুও বেশি না ; একটুও কম নয়। বুঝলি রে গবেট?শুনে যা এবার :


-হোটেল বুকিং'এর রশিদ। টিক।


-ট্র্যাভেল এজেন্ট কে দেওয়া আমার পকেট কাটার রশিদ। টিক।


-ভোটার পরিচিতি পত্র। টিক।


-শীতের দেশ। প্রোটেকসন দুর্দান্ত চাই, অথচ স্পেস বেশি খরচ করলে চলবে না। উলের সোয়েটার বেশি জাগা নেয়। ক্যানসেল। বদলে রয়েছে চার খান উলিকটের গেন্জী; টু অ্যাট এ টাইম গায়ে চাপাবার জন্যে, লেদার জ্যাকেট, উলের মজা, দস্তানা, মাঙ্কি ক্যাপ।টিক।


-সাত দিনের জন্যে, তিন জোড়া প্যান্ট আর চার পিস শার্ট যথেষ্ট। ঘরের জনন্যে দু জোড়া পায়জামা। একটা বিপদকালীন ব্যবহারের জনন্যে লুঙ্গি। টিক।


-তোয়ালে বাদ। দু জোড়া গামছা ইন। নিপাট, ছিমছাম। টিক।


-ক্যামেরা। বেরিয়ে এলাম, তার দলিল রাখতে হবে তো? প্লাস দু জোড়া স্পেয়ার ব্যাটারি। টিক।


-বাপের দেওয়া ওয়াকম্যান অ্যাবানডান করে আই-পড নিয়েছি, বেশি কিছু স্কোয়ার মিলি-মিটার সেভ করা যাবে। পাহাড়ের গায়ে বসে দেবব্রতর আকাশ ভরা।ট্রীট।টিক।


-জল গরম করার ইলেকট্রিক ফ্লাস্ক প্লাস টী-ব্যাগ্স প্লাস সুগার পাউচ প্লাস ম্যাগী কাপ্পা-মেনিয়া ছয় প্যাকেট। পাহাড়ী-জঙ্গলী জায়গা। খাদ্য বিশ্বাসই আত্মবিশ্বাস।টিক।


-পকেট ডায়েরি, দুটো ডট পেন; একটা পকেটে, একটা স্পেয়ার। ইনফরমেসন গুলিয়ে ফেললে চলবে না। টিক।


-এক্সটেনশন কর্ড উইথ থ্রি সকেটস। চার্জিঙ্গ পয়েন্টের অভাবে মোবাইল বা আইপড ঠিকঠাক চার্জ করতে পারব না,সে বরদাস্ত করা যায় না। টিক।


-ব্যাক-আপ মোবাইল,অন্য সার্ভিস প্রোভাইডারের ব্যাক আপ সিম সহ, মোবাইল'এর জন্যে স্পেয়ার ব্যাটারি! মনে রাখিস পচা, কম্যূনিকেশন ইস দ্য কি। টিক।


-সিক্কিম'এর রোড ম্যাপ, এবং শিলিগুড়ি-তক বাস আর ট্রেন-সার্ভিসের লিষ্টি। টিক।


-গোল্ড-ফ্লেক প্যাকেট এক ডজন, সুখটানে ব্র্যান্ড গরবর অ্যালাউ করা যায় না।সাথে সদ্য গ্যাস ভরানো লাইটার। টিক।


-দাঁড়ি কামবার সরঞ্জাম, দাঁত-খড়কে, জনসনের ইয়ার-বাড, মার্গো সাবান, গায়ে মাখার সর্ষের তেল,কেওকার্পিন হেয়ার অয়েল, কোলগেটের ছোট টুথ-পেস্ট এবং ব্রাস।টিক।


-পুরনো খবরের কাগজ কয়েকটা। কে জানে কখন কোথায় কি লেগে যায়? টিক।


-নাইলনের দড়ি, পাঁচ গজ। ইয়ে, কে জানে। টিক।


-লিকুইড মসকিউটো রিপেল্যাণ্ট।


-প্যারাসেটামল, অ্যান্টাসিড, পেইন-কিলার, ক্রেপ-ব্যান্ডেজ,বদ হজমের গুলি, ব্যান্ড-এইড। ফিসিক্যাল কেলোর পাল্লায় পড়লে চলবে না।টিক।


-শীত-ছমছম দেশ, ভীষণ জরুরী; চ্যবনপ্রাশ।টিক।


-ইসবগুল। টিক।


-সান-গ্লাস। রে-ব্যান রে। এককেবারে চাবুক। পুজোর বোনাস থেকে নামলাম এবার। টিক।


-ফাইনালি, ক্যাশ এবং এ টী এম কার্ড।টিক।


কি বুঝলে বাবা পচারাম?’



-'ধন্য তুমি', সেলাম ঠুকে উঠে পড়লাম।


-'শুনে রাখ, ঠিকঠাক গোছগাছ করতে না পারলে শুধু ঘুরতে যাওয়া কেন? গোটা লাইফটাই মচকে যাবে রে। আর সঠিক গোছগাছ করতে কি চাই? কাগজে কলমে প্ল্যানিং। যেদিন নিজের মাথার গোবর গুলোকে অ্যাডজাষ্ট করে একটু বুদ্ধি-শুদ্ধি জেনারেট করতে পারবি, সেদিন বুঝবি যে প্ল্যানিং কি সাংঘাতিক জিনিষ', বলে পরতৃপ্ত হাসি বুলিয়ে মেজোমামা ফের ব্যাগ গোছানোয় মন দিল।


******


সন্ধ্যে আটটা বাজতেই মেজমামা বেরিয়ে গ্যাল বাক্স-প্যাঁটরা সহ। যদিও ট্রেন সেই রাত দশটায়।


রাত সোয়া নটায় মেজমামার ফোন।


-'পচা, তোকে তুরন্ত হাওড়া স্টেশনে আসতে হবে রে'


-'সে কি? কেন?'


-'ইয়ে, একটা ছোট্ট জিনিস আনতে ভুল হয়ে গ্যাছে'


-'তোমার ভুল হয়ে গ্যাছে? অ্যাত্ত প্ল্যানিং ছড়িয়েও ভুল, কি নিতে ভুলে গেছ?'


-'ওই, আর কি, মানে ট্রেনের টিকিট'টা রে, পচা! বেশি ত্যান্ডাই-ম্যান্ডাই করিস নি এখন। আমার দেরাজটা খুলে টিকিট টা নিয়ে ট্যাক্সি চড়ে জলদি আয়, ট্রেন যে এদিকে মিস হল বলে। আর হ্যাঁ, ভেবে দেখলাম কথাটা পাঁচ-কান করবার কোনও দরকার নেই রে, বহুদিন ধরেই তোর ওহ-ক্যালকাটার ডাব-চিংড়ি খাওয়ার শখ ছিল না? সিক্কিম থেকে ঘুরে এসেই দুজনে মিলে না হয় যাব? প্লিজ পচা, কাম সুন'










মদ্য পঞ্চ-প্রদীপ





মাতালের মদ্যপান নিতান্তই অকারণ, তাই সে মাতালকিন্তু আমরা Connoisseur, সুরা-উপভোগী, মদ্দ্যপ বেল্লিক-পনা আমাদের নয়আমাদের কারণ-সেবনে অতিশয় কারণ মিশে থাকে; তাই আমাদের মদ্য-স্পর্শে স্বয়ং ঈশ্বরের অমৃতরস প্রাপ্তি ঘটে।


কোন কারণ-গুলি স্পর্শ করে আমাদের গেলাসে ডুব?



১। বৃষ্টি : এ দেহ মৃত্তিকাবত, মাটিতে একদিন মিশে গিয়েই মুক্তিবর্ষা নেমে যখন মাটি ভিজিয়ে প্রকৃতিতে নরম স্পর্শ টেনে আনে, এ মেটে-শরীর তখন সুধা-মগ্ন হতে চায়অই, হূইস্কি, আইসো ব্রাদার, এ পচা কন্ঠ বাইয়া আনন্দ-বর্ষা হইয়া নামিয়া আইসো পঞ্জর জুড়িয়াবৃষ্টি নামলেই মশাই আমার হৃদয় এক মরণ-thirst জুড়ে বসে


২। শনিবার রাত: Weekend আমায় Weak করে তোলে বন্ধু।

হপ্তা-ভোরের খাটুনি ভেস্তিয়ে
, এ হার-পাঁজড় একটু লুব্রীকেশন চায় সখা; খোলো খোলো ছিপি / আমি পেগ মাপি/ রেখো না পেয়াসা বসায়ে


৩। পুরনো বন্ধু: বহুদিন পর দ্যাখা বন্ধু, গলায় ঝুলে বেসামাল হয়ে যদি তুই ছাড়া আমার কেউ নেই রে পঞ্চাই না বলতে পারি, তো সেই বন্ধুত্বের মরচে কাটবে কি করে দোস্ত? পুরুষেরা যে অকারণে এক অপরকে জড়িয়ে ধরে বন্ধু-সোহাগ জানাতে পারে না! On The Rocks ছাড়া সম্পর্কের পাথর যে গলে না।


৪। প্রিয় গান: শুনি, সাকি তোমার কাছে, আ আআ আআ, ব্যথা ভরা আআ আআ, দারু আছেঅহহ নজরুলহৃদয় কি এমন ভাবে পেনিট্রেট করতে আছে? কোলাহল তো বারণ হল, এবার কথা গানে গানে..উফ্ফ, মাই লর্ড, মদ না থাকলে একদিন গানের হাতে খুন হয়ে যেতে হত


৫। কবিতা: কবিতা পড়া একটি ক্রাইম স্যার, জেনে রাখুন। হূইস্কির ভ্যাক্সিন ছাড়া এ ধাক্কা কোনও ভদ্রজনে কেমনে সামলায়? আর কবিতা লেখা? মদ-বিনে? হ্যাঁ? পাগল নাকি? রবীন্দ্রনাথ মদ্যপান করেননি, কিন্তু তিনি তো Perfection’এর দেবতা, কবিতা-কারখানা, কবি কই? Imperfection বাদ দিয়ে কবিতা হতে পারে, কবি হয় না; মাইকেল কবি ছিলেন, শক্তি ছিলেন, এদের বুকে কবিতা ছিল, হাতে ছিল গেলাস



এই পঞ্চ-প্রদীপিও পাঁচটি সলতে থাকতে, ভদ্র বঙ্গ সন্তান অমৃত-আগুনে পুড়বে না, তা কি করে হয়?